দৈনিক চলনবিলের কথা
ঢাকাFriday , 13 May 2022
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অপহরণ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন-আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আলোচনা সভা
  8. ই-পেপার
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কুষি
  11. ক্রিকেট
  12. খুলনা
  13. খেলাধুলা
  14. গণমাধ্যম
  15. গাছ

পাবনার অহংকার নাট্যকার বৃন্দাবন দাস

chk24 a3
May 13, 2022 1:09 am
Link Copied!

 

পাবনা (জেলা) প্রতিনিধি

 

প্রখ্যাত নাট্যরচয়িতা, নাট্য অভিনেতা, নাট্যপরিচালক, পাবনার এক সময়ের কৃতী ফুটবল খেলোয়াড় (১৯৮৫-৯৩) বৃন্দাবন দাস। তিনি ১৯৬৩ সালের ৭ ডিসেম্বর পাবনা জেলার চাটমোহর উপজলার সাঁরোড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা স্বর্গীয় দয়ালকৃষ্ণ দাস (১৯২৫-২০১৫) ছিলেন প্রখ্যাত কীর্তনশিল্পী; পদাবলী কীর্তন ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী। দয়ালকৃষ্ণ দাস প্রায় ৫০ বছর কীর্তন গেয়ে ফিরেছেন এপার বাংলা এবং ওপার বাংলার গ্রামে-গঞ্জে। মাতা ময়নারানী ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখ সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৫ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন।

 

 

উপজেলার শালিখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে
প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন বৃন্দাবন দাস। তিনি চাটমোহর রাজা চন্দ্রনাথ ও বাবু সম্ভুনাথ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং চাটমোহর ডিগ্রি কলেজ (বর্তমানে চাটমোহর সরকারি ডিগ্রি কলেজ) থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন জগন্নাথ কলেজ ঢাকা থেকে বিএসএস (সম্মান) ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন।

 

 

বৃন্দাবন দাসের শৈশব ও কৈশোরের দিনগুলো অতিবাহিত হয় চাটমোহরেই। জীবনে কোনো সময় চিন্তা করেননি যে, তিনি লেখালেখি ও নাটকের সঙ্গে জড়িত হয়ে যাবেন। বৃন্দাবন দাসের প্রবল ইচ্ছা শক্তি ছিলো যে দেশের একজন নামকরা ফুটবল খেলোয়াড় হবেন এবং জাতীয় দল তথা ‘আবাহনী’র হয়ে আকাশী-নীল রঙের জার্সি গায়ে খেলবেন-দেশে ও বিদেশে। ১৯৮১ সালে এই স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে বাড়ী থেকে পালিয়ে চলে এলেন অচেনা শহর ঢাকায়। ঢাকাতে গিয়েই পা রাখলেন তার স্বপ্নের আবাহনী ক্লাবে।

 

 

কিংবদন্তিতূল্য ফুটবলার অমলেশ সেনের কাছে হাজির হয়ে জানালেন তার মনোবাসনার কথা। সেখান থেকে ব্যর্থ হয়ে আবার ফিরে এলেন নিজ মাতৃভূমি চাটমোহরে। ১৯৮৪-৮৬ সাল পর্যন্ত পর পর তিন বছর চাটমোহর উপজেলার বর্ষসেরা ফুটবলার হিসেবে সবুজ-পদকে ভূষিত হয়েছিলেন। সেখানে তিনি যে খেলার মাঠে ফুটবল খেলতেন, তার পাশেই ছিল ‘চাটমোহর সাংস্কৃতিক পরিষদ’। সেখানে নিয়মিত নাটকের রিহার্সেল এবং সংগীতচর্চা হতো। ঘটনাটি ১৯৮৫ সালের। একদিন হঠাৎ করেই হাজির হন চাটমোহর সাংস্কৃতিক পরিষদে। সাংস্কৃতিক পরিষদের পরিচালক গোলাম মোহাম্মদ ফারুককে ঠাট্টা করে বললেন, তাকে (বৃন্দাবন দাস) অভিনয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে। গোলাম ফারুক তাকে সালাম সাকলায়েন রচিত ‘চোর’ নাটকে ছোটো একটি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ করে দেন। সেখান থেকেই শুরু হয় বৃন্দাবন দাসের অভিনয়। এরপর সেখানেই বাংলাদেশ মুক্ত-নাটক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত এবং সেই সুবাদে ‘আরণ্যক নাট্যদল’-এর কর্ণধার মামুনুর রশীদের সঙ্গে পরিচয় ও ঢাকার আরণ্যক নাট্যদলের সদস্যপদ পেয়ে যান।

 

 

তারই ধারাবাহিকতায় নাট্যকার মামুনুর রশীদের সহকারী হিসেবে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। ১৯৯৪ সালে ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানীর প্রধান কার্যালয়ে জুনিয়র অফিসার পদে কিছুদিন কাজ করেন।‌ ১৯৯৭ সালে আরণ্যক ছেড়ে ‘প্রাচ্যনাট’ গঠন করেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘কেয়ার বাংলাদেশে’ সফলতার সহিত কাজ করেন ২০০৬ সাল পর্যন্ত। ১৯৯৭ সালে অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ‘প্রাচ্যনাট’ গঠন করেন এবং দলের প্রয়োজনে ছোটো একটি মঞ্চনাটক ‘কাঁদতে মানা’ নামক নাটকটি লেখেন। মূলত এই নাটকটি মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে প্রাচ্যনাটের শুভযাত্রা শুরু হয়।

 

 

এরপর কয়েক বন্ধু মিলে একটি টেলিভিশন-নাটক প্রযোজনার পরিকল্পনা এবং তার লেখা পাণ্ডুলিপি নিয়ে প্রখ্যাত নাট্য-পরিচালক সাইদুল আনাম টুটুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সাইদুল আনাম টুটুলের পরিচালনায় নির্মিত হলো তার লেখা প্রথম টেলিভিশন ধারাবাহিক-নাটক ‘বন্ধুবরেষু’। নাটকটি ১৯৯৯ সালে তৎকালীন একুশে টেলিভিশনে প্রচারিত হয়ে দর্শক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। সাধারণ মানুষ, তাদের আবেগ, হাসি-কান্না বৃন্দাবন দাসের লেখার উপজীব্য।বিশেষ করে পাবনার আঞ্চলিক ভাষাকে তিনি তার নাটকে স্থান করে দিয়ে পাবনার সর্বশ্রেণির মানুষের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন। বৃন্দাবন দাসের লেখা উল্লেখযোগ্য নাটক : বন্ধুবরেষু, মানিক চোর, বিয়ের ফুল, গরু চোর, ওয়ারেন, টক শো, হাড়কিপটে, পত্র মিতালী, সার্ভিস হোল্ডার, ঘর কুটুম, পাত্রী চাই, তিন গেদা, আলতা সুন্দরী, ভালোবাসার তিনকাল, সম্পত্তি, সম্পর্ক, উঁট, সাকিন সারিসুরি, ডায়রী, মোহর শেখ, ফিরে পাওয়া ঠিকানা, লেখক শ্রী নারায়ণ চন্দ্রদাস, কাসু দালালসহ প্রায় দুই শতাধিক নাটক ও ধারাবহিক-নাটক।

 

 

বৃন্দাবন দাসের লেখা মঞ্চ-নাটক : কাঁদতে মানা, দড়ির খেলা, অরণ্য সংবাদ, কন্যা ইত্যাদি। তার লেখা বই : কাঁদতে মানা (মঞ্চ-নাটক), বৃন্দাবন দাসের দুটি নাটক (টিভি-নাটক), সুরের আলো (গল্পগ্রন্থ)। নাটকে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি-স্বরূপ তিনি বাংলাদেশ চলচিচত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) এবং বাংলাদেশ কালচারাল রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিআরএ) কর্তৃক সেরা নাট্যকার পুরস্কার লাভ করেন। কালচারাল রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সিজেএফবি) কর্তৃক সেরা নাট্যকার হিসেবে মনোনীত হন। সাংস্কৃতি দলের সদস্য ও দলনেতা হিসেবে তিনি ভারত, ভুটান, নেপাল, থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশ ভ্রমণ করেন। এছাড়া তিনি বিনোদন বিচিত্রা, টেনাশিনাস, ট্যাব, আরটিভি স্টার অ্যাওয়ার্ড, প্রতিবিম্ব (অস্ট্রেলিয়া) সহ বহু সম্মাননা ও পুরস্কার লাভ করেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
x