Dhaka , Thursday, 29 February 2024
www.dainikchalonbilerkotha.com

ভাঙ্গুড়ায় জাতীয় নির্বাচন ঘিরে ছাপাখানাগুলোতে জোর প্রস্তুতি

 

নিউজ ডেস্ক দৈনিক চলনবিলের কথা


 

নির্বাচন এলেই প্রেস পাড়ায় সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। চলে নানামুখী প্রচার-প্রচারণা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের পরপরই খট-খট শব্দে ছাপা যন্ত্র থেকে বেরিয়ে আসবে সাদা-কালো পোস্টার।

তাই আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার ছাপাখানাগুলো। অনেকেই মেশিন পরিষ্কারসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি মেরামতের কাজ সেরে নিচ্ছেন। উপজেলার ছাপাখানাগুলোতে গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র।

উপজেলার প্রিন্টিং প্রেসে তেল ও পানি দিয়ে পরিষ্কার করা হচ্ছে মেশিনের যন্ত্রাংশ। সঙ্গে কালার প্লেট বসানোর স্তরগুলোও তেল দিয়ে ঘষে রাখছেন মালিকরা। এতে করে সেখানে ময়লা পড়বে না। পাশাপাশি কাজের চাপ শুরু হলে সার্ভিসও ভালো পাওয়া যাবে এখান থেকে। এসব ছাপাখানাগুলোর কোথাও কোথাও কিনে রাখা হয়েছে স্টিল জাতীয় প্লেট। কোম্পানিগুলোতেও কাগজের অর্ডার দিয়ে রাখা হয়েছে।

প্রতীক বরাদ্দ হলেই চাহিদা অনুসারে সেখান থেকে কাগজ এনে শুরু হবে পোস্টার ছাপানোর কাজ। এই কাগজগুলো সংগ্রহ করা হয় বগুড়া অথবা ঢাকা থেকে। বর্তমান সময়ে কাগজ, কালিসহ অন্য জিনিসের দাম বেড়েছে। দেড় বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।

প্রতি রিম (৫০০ পিস) কাগজ বড় সাইজ (২৩ ইঞ্চি বাই ৩৬ ইঞ্চি) পুরুত্ব (পাতলা, মোটা) অনুসারে (৫৫ গ্রাম পুরুত্ব) দাম দুই হাজার ৩০০ টাকা, যা আগে ছিল এক হাজার তিনশো টাকা। এই কাগজ কিনে কাটিং মেশিনের সাহায্যে সাইজ করে তা দিয়ে পোস্টার ছাপানো হয়। কালি প্রতি পাউন্ড কোম্পানি ভেদে গত দেড় বছরে একশো থেকে ১৫০ টাকা বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায়।

উপজেলার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ছাপাখানা রয়েছে ৪টি। নির্বাচনী প্রচারে কাগজের পোস্টার, লিফলেট ও কার্ডের সঙ্গে ডিজিটাল ব্যানার-ফেস্টুনের ব্যাপক চাহিদা থাকে। সব প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণা একসঙ্গে শুরু হয় বলে সেই চাহিদার চাপ সামলাতে ছাপাখানা ও আনুষঙ্গিক পণ্যের ব্যবসায়ীদের তাই আগেভাগেই প্রস্তুতি নিতে হয়। সেই জন্য আগেভাগেই ছাপাখানাগুলো তাদের প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছেন।

উপজেলার খান প্রেসের মালিক জহুরুল ইসলাম খান বলেন, নতুন বছর সামনে রেখে নভেম্বর-ডিসেম্বর এমনিতেই বই, ক্যালেন্ডার ও ডায়েরি ছাপানোর একটা চাপ থাকে। এবারে এ রকম সময়েই নির্বাচন পড়ায় তাঁদের বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হয়েছে।কাগজ, কালিসহ ছাপা খানার অন্যান্য জিনিস পত্রের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং প্রেসের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি হওয়ায় সব কিছুরই দাম বেড়েছে। সেই জন্য এবার নির্বাচনে প্রার্থীদের পোস্টার ছাপাতে অন্য বছরের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বাড়তে পারে। তবে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই জোরেশোরে শুরু হবে ছাপাখানার কাজ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ভাঙ্গুড়ায় জাতীয় নির্বাচন ঘিরে ছাপাখানাগুলোতে জোর প্রস্তুতি

আপডেটের সময় 11:18 am, Wednesday, 6 December 2023

 

নিউজ ডেস্ক দৈনিক চলনবিলের কথা


 

নির্বাচন এলেই প্রেস পাড়ায় সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। চলে নানামুখী প্রচার-প্রচারণা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের পরপরই খট-খট শব্দে ছাপা যন্ত্র থেকে বেরিয়ে আসবে সাদা-কালো পোস্টার।

তাই আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার ছাপাখানাগুলো। অনেকেই মেশিন পরিষ্কারসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি মেরামতের কাজ সেরে নিচ্ছেন। উপজেলার ছাপাখানাগুলোতে গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র।

উপজেলার প্রিন্টিং প্রেসে তেল ও পানি দিয়ে পরিষ্কার করা হচ্ছে মেশিনের যন্ত্রাংশ। সঙ্গে কালার প্লেট বসানোর স্তরগুলোও তেল দিয়ে ঘষে রাখছেন মালিকরা। এতে করে সেখানে ময়লা পড়বে না। পাশাপাশি কাজের চাপ শুরু হলে সার্ভিসও ভালো পাওয়া যাবে এখান থেকে। এসব ছাপাখানাগুলোর কোথাও কোথাও কিনে রাখা হয়েছে স্টিল জাতীয় প্লেট। কোম্পানিগুলোতেও কাগজের অর্ডার দিয়ে রাখা হয়েছে।

প্রতীক বরাদ্দ হলেই চাহিদা অনুসারে সেখান থেকে কাগজ এনে শুরু হবে পোস্টার ছাপানোর কাজ। এই কাগজগুলো সংগ্রহ করা হয় বগুড়া অথবা ঢাকা থেকে। বর্তমান সময়ে কাগজ, কালিসহ অন্য জিনিসের দাম বেড়েছে। দেড় বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।

প্রতি রিম (৫০০ পিস) কাগজ বড় সাইজ (২৩ ইঞ্চি বাই ৩৬ ইঞ্চি) পুরুত্ব (পাতলা, মোটা) অনুসারে (৫৫ গ্রাম পুরুত্ব) দাম দুই হাজার ৩০০ টাকা, যা আগে ছিল এক হাজার তিনশো টাকা। এই কাগজ কিনে কাটিং মেশিনের সাহায্যে সাইজ করে তা দিয়ে পোস্টার ছাপানো হয়। কালি প্রতি পাউন্ড কোম্পানি ভেদে গত দেড় বছরে একশো থেকে ১৫০ টাকা বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায়।

উপজেলার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ছাপাখানা রয়েছে ৪টি। নির্বাচনী প্রচারে কাগজের পোস্টার, লিফলেট ও কার্ডের সঙ্গে ডিজিটাল ব্যানার-ফেস্টুনের ব্যাপক চাহিদা থাকে। সব প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণা একসঙ্গে শুরু হয় বলে সেই চাহিদার চাপ সামলাতে ছাপাখানা ও আনুষঙ্গিক পণ্যের ব্যবসায়ীদের তাই আগেভাগেই প্রস্তুতি নিতে হয়। সেই জন্য আগেভাগেই ছাপাখানাগুলো তাদের প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছেন।

উপজেলার খান প্রেসের মালিক জহুরুল ইসলাম খান বলেন, নতুন বছর সামনে রেখে নভেম্বর-ডিসেম্বর এমনিতেই বই, ক্যালেন্ডার ও ডায়েরি ছাপানোর একটা চাপ থাকে। এবারে এ রকম সময়েই নির্বাচন পড়ায় তাঁদের বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হয়েছে।কাগজ, কালিসহ ছাপা খানার অন্যান্য জিনিস পত্রের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং প্রেসের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি হওয়ায় সব কিছুরই দাম বেড়েছে। সেই জন্য এবার নির্বাচনে প্রার্থীদের পোস্টার ছাপাতে অন্য বছরের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বাড়তে পারে। তবে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই জোরেশোরে শুরু হবে ছাপাখানার কাজ।