Dhaka , Monday, 20 May 2024
www.dainikchalonbilerkotha.com

ভাঙ্গুড়ার ফুটবল প্রেমিক সাবেক ফুটবলার রাশিদুল ইসলাম

 

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি


 

বয়স পঞ্চাশের কোঠায়, কিন্তু তেজ এতটুকু কমেনি। গত ১৫ বছর ধরে উপজেলার বিভিন্ন ফুটবল ক্লাবের কোচ হিসেবে ছেলেদের ফুটবল খেলা শিখিয়ে যাচ্ছেন। তৃণমূলে খেলোয়াড় তৈরিতে যারা উদ্যোগ নিয়েছেন তাদের খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন তিনি।

বছর জুড়ে সপ্তাহের দু’দিন তিনি ফুটবল খেলা অনুশীলন করান প্রতিদিন বিকেলে। তিনি কোনো ক্লাব বা দলের নিয়োগ প্রাপ্ত কোচ নন, পান না কোন বেতন। আবার কেউ সম্মানী দিতে চাইলেও গ্রহণ করেন না তিনি। তবুও কেউ তাকে কখনো ফুটবল অনুশীলন করানো থেকে বিরত রাখতে পারেনি।

এই ফুটবল প্রেমিক ব্যক্তির নাম রাশিদুল ইসলাম মাষ্টার। সবাই তাকে গোলরক্ষক রাশিদুল বলেই চেনেন। রাশিদুল ইসলাম পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া পৌরসভার চৌবাড়ীয়া মাষ্টার পাড়া মহল্লার আলহাজ্ব আব্দুল মান্নানের ছেলে।

শৈশবের বন্ধুদের অনেকেই উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে গ্রাম ছেড়ে শহরে বসবাস করছেন। অনেকেই হয়েছেন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সরকারি চাকুরে। তিনিও নিজেও পেশায় একজন সরকারি চাকুরীজীবী। কর্মরত রয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে।

সরকারি চাকরির জন্য সপ্তাহে ছুটি পান দু’দিন। তখন স্থানীয় ছেলেদের ফুটবল অনুশীলনে নিজেকে ব্যস্ত করে ফেলেন। এই গুরু দায়িত্ব পালনে ঝড়-বৃষ্টি-শীত কোনোটাই কখনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি রাশিদুল ইসলামের পথে। শৈশব থেকেই তার ফুটবল খেলার শুরু বলে জানা গেছে।

ফুটবল খেলতে খেলতে এক সময় নিজের অজান্তেই কেমন করে যেন ফুটবল খেলাকে ভালোবেসে ফেলেন রাশিদুল ইসলাম। তাই মনে হয় ফুটবলই যেন তার একমাত্র ভালোবাসা আর প্রত্যেক খেলোয়াড় যেন তার পরিবারের একান্ত প্রিয় সদস্য।

উপজেলার কয়েকজন সাবেক ফুটবলার বলেন, রাশিদুল ইসলাম অনেক বছর হলো এলাকার খেলোয়াড়দের বিনা পয়সায় ফুটবলের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন। বিকেলে ওয়ার্ম আপ অ্যাক্টিভেশন, পাসিং প্র্যাকটিস, পজিশন গেম, গেম ট্রেনিং, ট্রেনিং গেম ও কুল ডাউন অনুশীলন করান। এলাকার ফুটবল খেলার উন্নয়নে তার অবদান মনে রাখবে সবাই।

একান্ত আলাপচারিতার এক পর্যায়ে রাশিদুল ইসলাম মাষ্টার চলনবিলের কথাকে বলেন, আমি একজন স্বেচ্ছাসেবী ফুটবল প্রশিক্ষক। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে স্থানীয় ছেলেদের ফুটবল অনুশীলন করাই। এ যাবৎ আমি বহু ছেলেকে শারীরিক শিক্ষা ও ফুটবল প্রশিক্ষণ দিয়েছি। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সেনাবাহিনী, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীতে খেলোয়াড় কোটায় চাকরি পেয়েছেন।

রাশিদুল ইসলাম আরও বলেন, উপজেলার বিভিন্ন একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেওয়া খুদে খেলোয়াড়েরাই একদিন দেশ-বিদেশে ভাঙ্গুড়ার নাম ছড়িয়ে দেবে। ক্রমান্বয়ে নতুন প্রজন্ম খেলাধুলায় আগ্রহী হবে। মাদক বা সন্ত্রাসের পথে পা বাড়াবে না এমনটাই প্রত্যাশা করেন সুনামধন্য সাবেক এই ফুটবলার।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ভাঙ্গুড়ার ফুটবল প্রেমিক সাবেক ফুটবলার রাশিদুল ইসলাম

আপডেটের সময় 07:34 pm, Monday, 4 December 2023

 

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি


 

বয়স পঞ্চাশের কোঠায়, কিন্তু তেজ এতটুকু কমেনি। গত ১৫ বছর ধরে উপজেলার বিভিন্ন ফুটবল ক্লাবের কোচ হিসেবে ছেলেদের ফুটবল খেলা শিখিয়ে যাচ্ছেন। তৃণমূলে খেলোয়াড় তৈরিতে যারা উদ্যোগ নিয়েছেন তাদের খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন তিনি।

বছর জুড়ে সপ্তাহের দু’দিন তিনি ফুটবল খেলা অনুশীলন করান প্রতিদিন বিকেলে। তিনি কোনো ক্লাব বা দলের নিয়োগ প্রাপ্ত কোচ নন, পান না কোন বেতন। আবার কেউ সম্মানী দিতে চাইলেও গ্রহণ করেন না তিনি। তবুও কেউ তাকে কখনো ফুটবল অনুশীলন করানো থেকে বিরত রাখতে পারেনি।

এই ফুটবল প্রেমিক ব্যক্তির নাম রাশিদুল ইসলাম মাষ্টার। সবাই তাকে গোলরক্ষক রাশিদুল বলেই চেনেন। রাশিদুল ইসলাম পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া পৌরসভার চৌবাড়ীয়া মাষ্টার পাড়া মহল্লার আলহাজ্ব আব্দুল মান্নানের ছেলে।

শৈশবের বন্ধুদের অনেকেই উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে গ্রাম ছেড়ে শহরে বসবাস করছেন। অনেকেই হয়েছেন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সরকারি চাকুরে। তিনিও নিজেও পেশায় একজন সরকারি চাকুরীজীবী। কর্মরত রয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে।

সরকারি চাকরির জন্য সপ্তাহে ছুটি পান দু’দিন। তখন স্থানীয় ছেলেদের ফুটবল অনুশীলনে নিজেকে ব্যস্ত করে ফেলেন। এই গুরু দায়িত্ব পালনে ঝড়-বৃষ্টি-শীত কোনোটাই কখনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি রাশিদুল ইসলামের পথে। শৈশব থেকেই তার ফুটবল খেলার শুরু বলে জানা গেছে।

ফুটবল খেলতে খেলতে এক সময় নিজের অজান্তেই কেমন করে যেন ফুটবল খেলাকে ভালোবেসে ফেলেন রাশিদুল ইসলাম। তাই মনে হয় ফুটবলই যেন তার একমাত্র ভালোবাসা আর প্রত্যেক খেলোয়াড় যেন তার পরিবারের একান্ত প্রিয় সদস্য।

উপজেলার কয়েকজন সাবেক ফুটবলার বলেন, রাশিদুল ইসলাম অনেক বছর হলো এলাকার খেলোয়াড়দের বিনা পয়সায় ফুটবলের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন। বিকেলে ওয়ার্ম আপ অ্যাক্টিভেশন, পাসিং প্র্যাকটিস, পজিশন গেম, গেম ট্রেনিং, ট্রেনিং গেম ও কুল ডাউন অনুশীলন করান। এলাকার ফুটবল খেলার উন্নয়নে তার অবদান মনে রাখবে সবাই।

একান্ত আলাপচারিতার এক পর্যায়ে রাশিদুল ইসলাম মাষ্টার চলনবিলের কথাকে বলেন, আমি একজন স্বেচ্ছাসেবী ফুটবল প্রশিক্ষক। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে স্থানীয় ছেলেদের ফুটবল অনুশীলন করাই। এ যাবৎ আমি বহু ছেলেকে শারীরিক শিক্ষা ও ফুটবল প্রশিক্ষণ দিয়েছি। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সেনাবাহিনী, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীতে খেলোয়াড় কোটায় চাকরি পেয়েছেন।

রাশিদুল ইসলাম আরও বলেন, উপজেলার বিভিন্ন একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেওয়া খুদে খেলোয়াড়েরাই একদিন দেশ-বিদেশে ভাঙ্গুড়ার নাম ছড়িয়ে দেবে। ক্রমান্বয়ে নতুন প্রজন্ম খেলাধুলায় আগ্রহী হবে। মাদক বা সন্ত্রাসের পথে পা বাড়াবে না এমনটাই প্রত্যাশা করেন সুনামধন্য সাবেক এই ফুটবলার।