Logo
শিরোনাম
রেকর্ড ২৩১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৩৩২১ নীলকষ্টের পরিক্রমা ৩ -পিএম. জাহিদ জনগুরুত্বপুর্ণ রাস্তার বেহাল দশাঃসংস্কার চাই। ইসরাইলের বর্বরতার বিরুদ্ধে স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর সিংড়ায় রোজিনা ইসলামের মুক্তির দাবিতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা রমানাথপুরসহ কয়েকটি গ্রামের অর্ধশত পরিবার পেলো  ঈদ সামগ্রী উপহার কুয়াবাসী গ্রামের ১০০ পরিবার পেলো ঈদ উপহার কবিতা ভালোবাসার লাল গোলাপ কবি সাজিয়া আফরিন কবি -পিএম. জাহিদের ধারাবাহিক সিরিজ কবিতা ” নীলকষ্টের পরিক্রমা ২” আমি ছুয়ে যাই শিরোনামে কবি হাবিবুর রহমানের লেখা কবিতা কবি সাজিয়া আফরিনের কবিতা “এইতো জীবন “। কবি পি এম জাহিদের ধারাবাহিক কবিতা “নীলকষ্ঠের পরিক্রমা-০১” নোবেলের ‘মেহেরবান’ আসছে ২৫ রোজার পর কবি মোঃ আমিনুল ইসলাম মিন্টুর সমসাময়িক পরিস্থিতির কবিতা ” সমাজ এখন জিম্মি “। পাবনায়১২ কেজি গাঁজাসহ এসআই ওছিম গ্রেপ্তার। কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা পরিদর্শন করলেন এসপি খাইরুল আলম কুষ্টিয়ায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অবরুদ্ধ কৃষক সৈয়দ বেলাল হোসেন পাবেল এর নেতৃত্বে ধান কাটলো পটুয়াখালী জেলা ছাত্র লীগ সাতদিনেই ভেঙ্গে গেলো শ্রাবন্তীর ভালোবাসার সংসার ভোলায় এক মাসে ডায়রিয়া আক্রান্ত ৫ হাজারের অধিক ॥ পানিতে মিলেছে ডায়রিয়া জীবানু

মুর্শিদাবাদে বিক্ষোভ, রেল স্টেশন ভাঙচুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক বিক্ষোভ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ আর মেঘালয়ে। শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ আর হাওড়াতে ব্যাপক বিক্ষোভের সময়ে বেশ কয়েকটি ট্রেন আর দুটি রেল স্টেশনে ভাঙচুর করা হয়েছে, জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে বাস।

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গা আর হাওড়ার উলুবেড়িয়া স্টেশন দুটিতে বিক্ষোভকারীরা ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে।

উলুবেড়িয়া স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি ট্রেনেও পাথর ছোঁড়া হয়। তারপরে দুটি স্টেশনের সামনেই আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বন্ধ হয়ে যায় ট্রেন লাইন। হাওড়া থেকে খড়্গপুর ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বেশ কিছু দূরপাল্লার ট্রেন আটকিয়ে পড়েছে।

বেলডাঙ্গা স্টেশনেও একই ভাবে ভাঙচুর চলে শুক্রবার। ওই এলাকার কয়েকটি বাস আর গাড়িতেও ভাঙচুর চালানোর পরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বিক্ষোভ হয় সেখানকার থানার সামনেও।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বিজেপির এক রাজ্যস্তরের নেতা আক্রান্ত হয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এই বিক্ষোভগুলির খবর পাওয়ার পরেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। বৈঠকের শেষে তিনি আবেদন জানিয়েছেন যাতে মানুষ গণতান্ত্রিক পথে, শান্তিপূর্ণভাবে তাদের প্রতিবাদ জানান।

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভের খবর পাওয়ার পরেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন।

উত্তরপ্রদেশের আলিগড়েও শুক্রবার ছাত্র আর শিক্ষকরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। পৃথক মিছিলের শেষে তারা দাবি সনদ পেশ করেছেন নাগরিকত্ব আইনের সংশোধনীগুলি প্রত্যাহার করার জন্য।

মুসলমান ছাড়া প্রতিবেশি তিন দেশের সংখ্যালঘু মানুষকে নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য আনা বিলের বিরুদ্ধে দিল্লির জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরাও শুক্রবার পথে নেমেছিলেন।

তারা দাবি সনদ পেশ করার জন্য সংসদ ভবনের দিকে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ক্যাম্পাসেই ওই বিক্ষোভ মিছিল আটকিয়ে দেয় পুলিশ। ছাত্রদের ওপরে পুলিশ লাঠি চার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে।

মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে শুক্রবার পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে সেখানকার রাজ্যপাল তথাগত রায়ের একটি টুইট বার্তার পরে।

বিজেপির প্রাক্তন নেতা মি. রায় টুইট করে লেখেন, ”সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দুটি বিষয় কখনই ভুলে যাওয়া উচিত নয়। এক, এই দেশ ভাগ হয়েছিল ধর্মের ভিত্তিতেই। দুই, গণতন্ত্রে বিভাজন থাকবেই। কেউ যদি সেটা না চান, তাহলে উত্তর কোরিয়ায় চলে যেতে পারেন।”

হাজার হাজার মানুষ আজ মিছিল করছিলেন নতুন নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে। তার মধ্যেই এই টুইট বার্তার পরে মিছিল ঘুরে যায় রাজভবনের ফটকের দিকে।

মেঘালয় রাজ্যে আগেই মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট আর এস এম এস পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এই বিলের প্রতিবাদে আসামে হিংসাত্মক বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল আগেই। অন্যান্য রাজ্যেও বিচ্ছিন্নভাবে বিক্ষোভ, মিছিল চলছিল।

এরই মধ্যে আসামের গুয়াহাটিতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, তা বাতিল হয়েছে।

পিছিয়ে গেছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহর উত্তরপূর্ব ভারতের সফরও। শুক্রবার নতুন এই আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে গোয়াতেও।

তবে আসামে যে বিক্ষোভ হচ্ছে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে, তার সঙ্গে ভারতের অন্য প্রদেশে বিক্ষোভগুলির বিস্তর ফারাক আছে।

আসামের মানুষ মনে করছেন যে নাগরিকত্ব আইনে সংশোধন আনার ফলে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে কথিত অবৈধ বাংলাদেশীরা ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার ছাড়পত্র পেয়ে যাবেন। আর তখন আসামের মূলনিবাসীদের ভাষা,সংস্কৃতি সহ অস্তিত্বই সঙ্কটের মুখে পড়বে।

তারা এও বলছেন, এনআরসি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে বিপুল সংখ্যায় বাংলাভাষী হিন্দুদের নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে, তাদের আইনে পরিবর্তন এনে ভারতীয় নাগরিক হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে বিজেপি নেতৃ্ত্বাধীন সরকার।

আসামের প্রতিবাদী সংগঠনগুলো বলছে কোনও ধর্মের ভিত্তিতে নয়, কোনও অবৈধ বাংলাদেশীকেই আসামে থাকতে দেওয়া যাবে না – তিনি হিন্দু হোন বা মুসলমান।

আসামের মুসলমানদের ক্ষোভ এই জন্য, যে, এনআরসি প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়া হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নাগরিকত্ব আইনে পরিবর্তন করে ভারতীয় হওয়ার সুযোগ দিলেও যে কয়েক লাখ মুসলমান এনআরসি তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, তাদের এবার আক্ষরিক অর্থেই ভারতীয় নাগরিক হওয়ার আবেদনেরও সুযোগ না দিয়ে রাষ্ট্রহীন করার চেষ্টা করছে সরকার।

আসামের বাংলাভাষী হিন্দুদের একটা বড় অংশ কিন্তু মনে করছে যে নাগরিকত্ব আইনে সংশোধনের ফলে তারা লাভবান হলেও হতে পারেন। কিন্তু সন্দেহ রয়েছে তাদের মনেও।

আসামের বাইরে অন্যান্য রাজ্যে যেসব বিক্ষোভ হচ্ছে, সেটা আসামের মুসলমান সমাজের ক্ষোভের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গ হোক বা আলিগড় অথবা জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এই কারণে যে, প্রতিবাদীরা মনে করছেন যে নতুন আইনে আসলে মুসলমানদের নাগরিকত্বহীন করার একটা প্রচেষ্টা আছে। সূত্র: বিবিসি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Categories

Theme Created By ThemesWala.Com