Logo
শিরোনাম
পাবনায় সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় জামান ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক সুমনের বিরুদ্ধে মামলা সিংড়ায় বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে শিক্ষার্থীর মৃত্যু ভাঙ্গুড়ায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন ভাঙ্গুড়ায় কোভিড-১৯ পরবর্তী প্রাথমিক বিদ্যালয় পুনরায় চালুকরণের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা ভাঙ্গুড়ায় ওয়াশ ব্লক নির্মাণ কাজের উদ্ধোধন ভক্তদের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন পরীমনি ভাঙ্গুড়ায় বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করোনা কালীন হেল্প সেন্টারের উদ্বোধন হন্তারক ★★ -পিএম. জাহিদ জীবন যেখানে যেমন পদ্মা সেতুর স্প্যানে ফেরির মাস্তুলের ‘ধাক্কার’ খবর, পরির্দশনে যাচ্ছে একটি দল মহান নেতা ★★ফেরদৌসী খানম রীনা আমাদের দেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ খাদ্যমন্ত্রী মেঘ কন্যা চাঁদে ★ কবি হাবিবুর রহমান  চলনবিলে শাপলার সমাহার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে মতবিনিময় সভা ভরা চলনবিল মাছ শূন্য উল্লাপাড়ায় গৃহবধুকে চায়ের স্টল হতে তুলে নিয়ে রাতভর আমবাগানে গণধর্ষন ১০-১১ জনের দলের ডি মারিয়া-এমবাপেতে ভর করে ছয় গোলের রোমাঞ্চে জিতল পিএসজি সিংড়ায় সেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন সিংড়ায় বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত গ্রামে জাতীয় শোক দিবস পালন

কবি হাবিবুর রহমানের লেখা আমি তোমার প্রেমের মাষ্টার

আমি তোমার প্রেমের মাষ্টার

কবি হাবিবুর রহমান


হাইস্কুল ছুটি হয়নি। বেলাল মাষ্টার চেয়ারে ঝিমাচ্ছে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এখনও বিয়ে করেনি। মাষ্টার মনের মত মেয়ে পাচ্ছেনা।স্বপ্না সবে মাত্র ভর্তি হয়েছে। ও নবম শ্রেণির ছাত্রী। আজ স্বপ্না প্রথম ক্লাসে গিয়েছে। সবাই অপরিচিত। স্বপ্না ছাত্রী হিসেবে ভালো। প্রথম ব্রেঞ্চে স্বপ্না
বসে। বেলাল মাষ্টার বাংলা পড়ায়। ক্লাসে এলো মাষ্টার।
চেয়ারে বসতেই মাষ্টারের চোখ পড়লো স্বপ্নার দিকে। মাষ্টার বসার পর সবাই যে যার আসনে বসে।
বেলাল বলল,”এই মেয়ে তোমাকে বলছি। ”
স্বপ্না বলল,”আমি। ”
বেলাল বলল,তুমি,তোমার নাম কি? ”
স্বপ্না বলল,”আমি স্বপ্না। ”
বেলাল মাষ্টার তাকিয়ে আছে। স্বপ্নাও তাকে দেখছে। তারপর মাষ্টারের ইশারা পেয়ে স্বপ্না তার আসনে বসে পড়লো। মাষ্টার মনে মনে বলল,”আমি যাকে চাই তুমিই সে।” স্বপ্নার কোনো বান্ধবী নেই কেননা সে এখানে নতুন। বেলাল মাষ্টার পড়ানোর ফাঁকে ফাঁকে শুধু স্বপ্নাকেই দেখছিল। স্বপ্না বিষয়টি বুঝতে পারল। সে নিচে তাকিয়ে রইলো। নির্ধারিত সময় শেষ বেলাল মাষ্টার স্টাফ রুমে গেল। তিন সাবজেক্ট হয়ে গেল। বিরতী। বেলাল মাষ্টার লাইব্রেরীতে। বই পড়ছে। একটু পড়ে স্বপ্না এলো। “নূপুর”কাব্যগ্রন্থ হাতে নিয়ে লাইব্রেরীর কনার টেবিলে বসেছে। বই পড়তে কম সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীই আসে। বেলাল মাষ্টার পলিটিক্সের বইটি রেখে কবি হাবিবুর রহমানের “কলেজের সিঁড়ি”কাব্যগ্রন্থটি হাতে নিল। তারপর স্বপ্নার মুখোমুখি বসে। দুজনা পাতা নাড়ছে। বেলাল মাষ্টার বলল,”স্বপ্না তোমার বাড়িতে কে কে আছে? ”
স্বপ্না বলল,”মা বাবা ভাই বোন সবাই আছে। ”
বেলাল মাষ্টার বলল,”ও আচ্ছা,তারা এখানে। ”
স্বপ্না বলল,”তারা বগুড়ায় থাকে,আমি আমার মামার বাড়িতে থাকি। ”
বেলাল মাষ্টার বলল,”তোমার মামার নাম কি বল?”
স্বপ্না বলল,”জয়নাল, চাল ব্যবসায়ী। ”
বেলাল মাষ্টার বলল,”আমি চিনি,কবিতার বই পড়তে ভালোবাসো। ”
স্বপ্না বলল,”জ্বি!শুধু কবি হাবিবুর রহমানের লেখা পড়ি,ভালো লাগে আমার। ”
বেলাল মাষ্টার বলল,”খুব সুন্দর। ”
স্বপ্না বলল,”আপনার কাকে ভালো লাগে। ”
বেলাল বলল,”আমিও কবি হাবিবুর রহমানের লেখা পড়ি। ”
তারপর দুজন অনেকখন চুপ করে রইল।
বেলাল মাষ্টার স্বপ্নার দু চোখ দেখছিল, প্রেমে ভড়া,পা থেকে মাথা পর্যন্ত শুধু প্রেম।
তার মনে নেশা লেগে গেল। মিষ্টি হাসি দিয়ে স্বপ্না ক্লাসে চলে গেল।
তারপর স্কুল ছুটি হয়ে গেল। সবাই চলে গেল। বেলাল মাষ্টার ও জয়নালের বাড়ি একই পাড়ায়। তাদের মধ্যে ভালো মিলও রয়েছে। বিকেল হয়ে গেল। বেলাল মাষ্টার রাস্তায়। জয়নালের বাড়ির বটগাছটার নিচে বসে। বাড়ির ছাদ দেখা যায়। মিনিট পাঁচেক হাটলেই বাঁজার। মাষ্টার ছাদের দিকে তাকিয়ে। একটু পড়ে ছাদে স্বপ্না এলো,পড়নে হলুদ শাড়ী। দুজনের চোখাচোখি। স্বপ্নার হাতে এ্যান্ড্রুয়েট ফোন। বিড়বিড় করে কি জানি পড়ছিল। আর তাকাচ্ছিল। একটু পর নিলিমা এলো,স্বপ্নার মামাত বোন নিলিমা।
নিলিমা বলল,”উকি দিয়ে তুই কাকে দেখছিস স্বপ্না। ”
স্বপ্না বলল,”খুব সুন্দর বট গাছ তো,সুন্দর প্রকৃতি। ”
নিলিমা বলল,”বেলাল মাষ্টারের নজরে যেন না পড়িস। ”
স্বপ্না বলল,”মাষ্টারের লজ্জা নেই দ্যাখ তাকাচ্ছে।
নিলিমা বলল,”শুরু হয়ে গেছে প্রেমের পর্ব। ”
স্বপ্না চুপ করে রইল।
নিলিমা বলল,”বেশি তাকাস না বিয়ের ফুল ফুঁটবে। ”
তাদের তাকানো শেষ হয়না। স্বপ্নার মিষ্টি হাসি,মাষ্টারকে আরও পাগল করে। সন্ধ্যা হয়ে এলো। তারা ছাদ ছেড়ে চলে গেল। মাষ্টার ও বাড়ির দিকে চলে গেল। সে রাতে মাষ্টারের ঘুম হয়নি। সকালের অপেক্ষা করেছে।
সকাল। নয়টার দিকে সবাই স্কুলে যায়। সাড়ে নয়টায় শপথ বাক্য, জাতীয় সংগীত, পিটির মধ্যদিয়ে শুরু হয় দিনের পর্ব। তারপর ক্লাস।
অন্যান্য মাষ্টার মাঠে দায়িত্ব পালন করলেও বেলাল মাষ্টার পিটির সময় খুব একটা যায়না। তার দিনের সূচনা লাইব্রেরীতে বই পড়ার মধ্যদিয়ে। ক্লাস শুরু। বাংলা বই হাতে নিয়ে বেলাল মাষ্টার শ্রেণি কক্ষের উদ্দেশ্যে রওনা হল।
যে যার নির্ধারিত আসনে বসে গেল। বেলাল মাষ্টারের চোখ স্বপ্নার দিকে। মাষ্টার যতবার তাকায় স্বপ্না ততবার মুচকি হাসি দেয়। রিডিং পড়া শেষে, কয়েকটা প্রশ্ন দিল মাষ্টার।
তারপর সময় শেষ। কেন জানি সময় শেষ হয় মাষ্টার নিজেও জানেনা।
মাষ্টার লাইব্রেরীতে কনার টেবিলে বসেছে। মিনিট পাঁচেক পর স্বপ্না এলো।
স্বপ্না বলল,”কি পড়ছেন? ”
বেলাল মাষ্টার বলল,”আমি ডেল কার্ণেগীর বই পড়ছি। ”
স্বপ্না বলল,”পড়ুন। ”
বেলাল বলল,”তোমার তো এখন ইংরেজী ক্লাস, এখানে কেন? সব সময় এন্ড্রুয়েট ফোনে কি করো। ”
স্বপ্না বলল,”ইংরেজী ক্লাস ভালো লাগেনা আমার,ফোনে গল্প পড়ি।
বেলাল মাষ্টার বলল,”ফোনে আবার গল্পও থাকে নাকি। ”
স্বপ্না বলল,”আপনার ফেইসবুক নেই। ”
বেলাল মাষ্টার বলল,”না। ”
স্বপ্না বলল,”এই যে দেখুন নতুন নতুন গল্প,কবিতা, অনেক মজার,আমি ফেইসবুকে কবি হাবিবুর রহমানের সব লেখা পাই। ”
বেলাল মাষ্টার বলল”আমি তোমাকে ভালোবাসি। ”
স্বপ্না বলল,”এটা কার লেখা গল্প। ”
বেলাল মাষ্টার বলল,”এটা আমার আর তোমার গল্প স্বপ্না। ”
স্বপ্না থেমে গেল। মাষ্টার যে তাকে এভাবে প্রেমের হিট করবে ভাবতেও পারেনি।
বেলাল মাষ্টার বলল,”আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই স্বপ্না। ”
স্বপ্নার পা কাপছে। মাষ্টারের খুব সাহস। স্বপ্না কিছু বলছেনা।
বেলাল মাষ্টার আবার বলল,”বিয়ের পর তুমি অনেক সুখি রবে,তোমাকে ভাবার সময় দিলাম, দশম শ্রেণির বাংলা ক্লাসটা নিয়ে আসি তুমি ভাবো সোনা। ”
বেলাল মাষ্টার চলে গেল। লাইব্রেরীতে স্বপ্না একাই রইল।
স্বপ্না তার মামাত বোন নিলিমাকে ফোন দিল।
নিলিমা ফোন ধরল।
স্বপ্না বলল,”মাষ্টার আমায় বিয়ে করতে চায় রে, প্রথমে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছে।”
নিলিমা বলল,”রাজি হয়ে যা। ”
স্বপ্না বলল,”প্রেম করব না। ”
নিলিমা বলল,” কি করবি শুনি। ”
স্বপ্না বলল,”বিয়ে। ”
নিলিমা বলল,”মাষ্টারের বিয়ের ফুল ফুটুক শুভ কামনা,আমার কাজ আছে তুই ক্লাসে যা। ”
ফোন কেটে দিল। স্বপ্না অপেক্ষা করতে লাগল।
(চলমান,,,,,,,,)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Categories

Theme Created By SmartiTHost