Logo
শিরোনাম
রমানাথপুরসহ কয়েকটি গ্রামের অর্ধশত পরিবার পেলো  ঈদ সামগ্রী উপহার কুয়াবাসী গ্রামের ১০০ পরিবার পেলো ঈদ উপহার কবিতা ভালোবাসার লাল গোলাপ কবি সাজিয়া আফরিন কবি -পিএম. জাহিদের ধারাবাহিক সিরিজ কবিতা ” নীলকষ্টের পরিক্রমা ২” আমি ছুয়ে যাই শিরোনামে কবি হাবিবুর রহমানের লেখা কবিতা কবি সাজিয়া আফরিনের কবিতা “এইতো জীবন “। কবি পি এম জাহিদের ধারাবাহিক কবিতা “নীলকষ্ঠের পরিক্রমা-০১” নোবেলের ‘মেহেরবান’ আসছে ২৫ রোজার পর কবি মোঃ আমিনুল ইসলাম মিন্টুর সমসাময়িক পরিস্থিতির কবিতা ” সমাজ এখন জিম্মি “। পাবনায়১২ কেজি গাঁজাসহ এসআই ওছিম গ্রেপ্তার। কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা পরিদর্শন করলেন এসপি খাইরুল আলম কুষ্টিয়ায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অবরুদ্ধ কৃষক সৈয়দ বেলাল হোসেন পাবেল এর নেতৃত্বে ধান কাটলো পটুয়াখালী জেলা ছাত্র লীগ সাতদিনেই ভেঙ্গে গেলো শ্রাবন্তীর ভালোবাসার সংসার ভোলায় এক মাসে ডায়রিয়া আক্রান্ত ৫ হাজারের অধিক ॥ পানিতে মিলেছে ডায়রিয়া জীবানু সিংড়ায় ট্রাকের ধাক্কায় দুই মাদ্রাসা শিক্ষক নিহত কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সালিশি বৈঠকে সংঘর্ষ মেম্বার সহ আহত -৯ বিশ্ব বই দিবস আজ: যেভাবে এলো দিনটি কবি পিএম. জাহিদের মেথরের বেটি- ২ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে রিমা নামের এক নববধূর লাশ উদ্ধার

ভোলায় এক মাসে ডায়রিয়া আক্রান্ত ৫ হাজারের অধিক ॥ পানিতে মিলেছে ডায়রিয়া জীবানু

ভোলায় এক মাসে ডায়রিয়া আক্রান্ত ৫ হাজারের অধিক ॥ পানিতে মিলেছে ডায়রিয়া জীবানু

শিহাবুর রহমান শাকিব, ভোলা প্রতিনিধিঃ


ভোলার পুকুরের পানিতে ডায়রিয়া জীবানু (ই-কলআই) শনাক্ত হয়েছে। হঠাৎ করে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় নমুনা পরীক্ষা করে এ জীবানুর সন্ধান পেয়েছে স্বাস্থ্যবিভাগ। একই সাথে ডায়রিয়া মোকাবেলায় জেলায় জরুরী ভিত্তিতে ৭৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। ভোলার সিভিল সার্জন ডা: সৈয়দ রেজাউল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্যবিভাগের একটি টিম ডায়রিয়া আক্রান্ত এক ব্যক্তির বাড়ির পুকুরের পানির নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় আইইডিসিআর প্রেরন করে। সেখান থেকে ৩দিন আগে নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টে ওই পুকুরের পানিতে ডায়রিয়া জীবানু পাওয়া গেছে।
নদী ও খালের পানিতে লবনাক্ততার পরিমান বেড়ে যাওয়া, বৃষ্টি না হওয়া এবং গরমের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায়র কারনে ডায়রিয়া সংক্রামন বেড়েছে। যা গত ১৫দিন ধরে অনেক বেশী। গ্রামাঞ্চলে গৃহস্থালী কাজে বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার না করা এবং হাইজিং মেনটেন না করার কারনেও ডায়রিয়া প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে জেলায় প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভীড় বাড়ছে। শয্য সংকটে রোগীদের বাধ্য হয়েই মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়েও হিমশিম খাচ্ছেন নার্স ও চিকিৎসক।
গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে জেলায় আরো ৩৩৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। যারমধ্যে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১২৫ জন। এছাড়া গত এক সপ্তাহে পুরো জেলায় ২ হাজার ৪ ৭৮ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। অন্যদিকে এক মাসে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাড়িয়েছে ৫ হাহার ৭৮৯ জনে।
এক সপ্তাহে আক্রান্তদের মধ্যে ভোলা সদর হাসপাতালে ৯৩৩ জন, দৌলতখানে ২৪১ জন, বোরহানউদ্দিনে ৩৭৬ জন, লালমোহনে ২৪২ জন, চরফ্যাশনে ৩৯২ জন, তজুমদ্দিনে ১৫৭ জন ও মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেকসে ১৩৭ জন।
সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে ধারন ক্ষমতার অধিক ১০ থেকে ১৫ গুন ডায়রিয়া রোগীকে চিকিৎসাধীন চিকিৎসা নিতে দেখা যায়।
ভোলা সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বেড সংকট থাকায় মেঝেতে বসে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। হঠাৎ করেই ডায়রিয়া রোগীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় তাদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক-নার্সরা। আক্রান্তদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশী। ডায়রিয়া আক্রান্ত বেড়ে যাওয়ায় উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে স্যালাইন সংকট। কোন কোন উপজেলায় আবার রোগীদের বাইরে থেকে চড়াও মূল্যে স্যালাইন কিনতে হচ্ছে। বেশী দামে স্যালাইন বিক্রি করায় লালমোহনে ২ জনের জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
ভোলা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর স্বজনরা জানান, ডায়রিয়ার প্রকোপ অনেক বেড়ে গেছে। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্করাও ডায়রিয়া আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালে বেড না থাকায় মেঝেতে বসে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে তাদের।
ডায়রিয়া ওয়ার্ডে দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স জাকিনুর জানান, ভোলা হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিন গড়ে ৯০ থেকে ১০০ জন বা তার চেয়েও বেশী রোগী ভর্তি হচ্ছে। রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে, তারপরেও আমরা চেষ্টা করিছ পর্যপ্ত সেবা দিতে।
ভোলার সিভিল সার্জন ডা: সৈয়দ রেজাউল ইসলাম বলেন, ডায়রিয়া মোকাবেলায় আমরা মেডিকেল টিম গঠন করেছি। তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, দুই একটি হাসপাতাল ছাড়া সব হাসপাতালে পর্যপ্ত স্যালাইন সরবরাহ রয়েছে। যা দিয়ে আরো ১০ দিন চালানো সম্ভব। আমাদের ডাক্তার ও নার্স রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Categories

Theme Created By ThemesWala.Com